নতুন বছরে এই ৮ টি ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুলুন

নতুন বছর শুরু হতে এখনও 40 দিন মতো বাকি তো নতুন বছরে আমরা অনেক নতুন অভ্যাস তৈরি করি কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই সেই সমস্ত অভ্যাস গুলোকে পূরণ করতে পারিনা তো আজকের এই ব্লগ পোস্টে আমি এমন কিছু ছোট ছোট অভ্যাসের কথা বলব যেগুলো আমরা নতুন বছর আসার আগে থেকেই এই লাস্ট চল্লিশ পঞ্চাশ দিন প্র্যাকটিস করবো যাতে নতুন বছরে আসার আগেই আমাদের জীবনে অনেক খানি পরিবর্তন আসে এবং এই হবিট গুলো খুবই ছোট হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই

সব থেকে বড় কথা হল এই হবিট গুলা এতটাই ছোট এবং এই হাদিসগুলো সম্পূর্ণ করতে কোন উইল পাওয়ার এর দরকার হবে না সুতরাং খুব সহজেই আপনি এগুলোকে প্রতিদিন পূরণ করতে পারবে তাই আর দেরি না করে অভ্যাস গুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক আশা করি আপনার এই ব্লগ পোস্টটি খুবই ভালো লাগবে এবং আপনার জীবনে প্রচুর ভ্যালু অ্যাড করবে

প্রথমে ফাঁস হলো কাজ করার সময় নিজের টেবিল পরিষ্কার রাখা

যখনই আমরা কোন কাজ করতে যাচ্ছি তখন আমরা যে টেবিলে চেয়ারে বসে কাজ করব তার চারপাশে যেন কোন অপ্রয়োজনীয়’ জিনিস না থাকে যেমন ধরুন আপনি ল্যাপটপে কোন কাজ করতে চাইলে আপনার মোবাইলটাকে দূরে সরিয়ে রাখুন ল্যাপটপ এবং একটা খাতা পেন্সিল ছাড়া আর কোনো কিছুই যেন টেবিলে না থাকে এর মাধ্যমে আপনি ডিস্ট্রাকশন থেকে বাঁচতে পারবেন এবং এটা আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ অনেক বাড়িয়ে দেবে

বেড শুধুমাত্র ঘুমানোর জন্য ব্যবহার করো

আমাদের মধ্যে অনেকেই আছে যারা সারাদিন বিছানার উপর শুয়ে শুয়ে মোবাইলে ওয়েব সিরিজ খেলা দেখে মোবাইলের উপর ভিডিও গেম খেলে সময় নষ্ট করে এবং আমরা বেশিরভাগ কাজই বিছানার উপর বসে বসে বা শুয়ে শুয়ে করি এমনকি বই পড়া থেকে শুরু করে যে কোন কাজ আমরা বিছানার উপর করি এই অবস্থা খুবই খারাপ অভ্যাস সাইকোলজিস্টরা বলে যে যখনই আপনি বিছানার উপর শুয়ে শুয়ে বা কোন কাজ করবেন তাতে আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ অনেক কমে যায়

তাই নতুন বছর শুরু হবার আগে আপনি একটা নতুন অভ্যাস তৈরি করেন যে একমাত্র শোয়ার জন্য বিছানা ব্যবহার করুন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিছানা কখনোই ব্যবহার করবেন না যা করবেন সব সময় সোজা হয়ে বসে ভালোভাবে কাজ করবে সেটা খেলা দেখা হোক বা কোন কাজ করা হোক বা টিভি দেখা হোক সব সময় সোজা হয়ে বসে কাজ করবে

নিজের কাজ করার জায়গায় জলের বোতল রাখুন

নিজের কাজ করার জায়গা জলের বোতল রাখলে আপনি মাঝে মাঝে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে জল খেতে পারবেন এর ফলে আপনি ডিহাইড্রেশন থেকে বেঁচে যাবে এছাড়া আমাদের মধ্যে অনেক খারাপ অভ্যাস আছে যে সারাদিনে খুব কম জল খায় তার প্রধান কারণ হলো জলের বোতল আমাদের চোখের সামনে থাকে না যখনই আপনি চোখের সামনে জলের বোতল রাখবেন তখনই আপনি কিছু সময় অন্তর অন্তর জল খেতে পারবে এবং রিসার্চ ও বলছে যে সামান্য জলের অভাবে আপনার কাজ করার কর্মদক্ষতা অনেক কমে যায় এবং তাই প্রতিদিন বেশি পরিমাণে জল খান এবং এটা করার জন্য আপনি আপনার কাজের জায়গা একটা জলের বোতল রাখো।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং খাবার একঘন্টা দুঘন্টা পরে গরম জল খান

প্রতিদিন সকালবেলা উঠে গরম জল খান আয়ুর্বেদিক এর মতে গরম জল খেলে আপনার খাওয়া খাবার খুব ভালোভাবে পাচিত হয় এবং গরম জল খাওয়ার অনেক সুবিধা আছে তাই প্রতিদিন নিয়ম করে টানা 40 দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গরম জল খেতে আপনি কিছুদিন পরে দেখবেন আপনার শরীর একটু এনার্জি ফিল করছেন

সবসময় সিঁড়ি ব্যবহার করুন:

কাজের জন্য অফিসে আপনি যখন থাকবেন তখন আপনি সবসময় লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন এই ছোট্ট অভ্যাস আপনাকে স্বাস্থ্য এবং সুস্বাস্থ্য রাখতে খুবই সাহায্য করবে

প্রতিদিন সকালে উঠে একটু খানি ব্যায়াম করুন

প্রতিদিন সকালে উঠে একটু হাত পা এবং ঘাড় প্রভৃতি ব্যায়াম করলে আপনার শরীরে একটু সার্চ করলে ব্লাড ফ্লো বেশি ভালো হবে এবং এর ফলে আপনি সারাদিন একটা এনার্জেটিক ফেল করবেন এবং কাজ করতে ইচ্ছা হবে তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এখন থেকে সকালে একটু এক্সারসাইজ করুন বা কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে একটু হেঁটে আসুন কিংবা যৌগিক নিঃশ্বাস নিন

দুপুরে লাঞ্চ করার পর দশ পনের মিনিট হেঁটে আসুন

আমাদের আয়ূর্বেদিক মত অনুসারে দুপুরের খাবার সব থেকে ভারী হওয়া উচিত এবং আপনি যখন খাবেন এ ব্যাপারে বলে রাখি তখন আপনি খাবারটা খুব ভালো করে চিবিয়ে খান এতে আপনার হজম শক্তি খুব ভালো হবে আপনাকে প্রতিটা খাবার প্রায় 34 বার চিবিয়ে খাওয়া উচিত এবং খাওয়ার পরে আপনি দশ পনেরো মিনিটের জন্য হেঁটে আসুন এতে আপনার খাবার হজম খুব ভালো হবে এবং আপনার দুপুরে আর ঘুম আসবে না এবং শরীর ভালো থাকবে

দিনে অন্ততঃ পাচ মিনিট সফট মিউজিক শুনুন

কোন কঠিন কাজ করার আগে দিনে সব মিউজিক শুনতে পারে রিসার্চাররা বলছেন যে সফট মিউজিক শুনলে আমাদের ব্রেনের কার্যক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায় এবং আমাদের চিন্তা ভাবনা ও আইডিয়া আসার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়

সবশেষে বলব যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস সেটা হল যেকোনো কাজের প্রতি আপনি ইনটেনশন রাখুন

মানে ধরুন আপনার মাথায় কোন আইডিয়া হেলো বা আপনি কোন ব্যবসা স্টার্ট করতে যাচ্ছেন না আপনি কোন নতুন স্কিল শিখতে চাচ্ছেন সেটা কখনোই ভাববেন ভাববেন না যে আমি কালকে করব আপনি সবসময় ভাববেন যে আজ থেকে আমি একটা স্টেপ এগোবো আজকে থেকে আমি সবকিছু শুরু করব ইনটেনশন টা সবসময় রাখুন এই ইনটেনশন তাই আপনাকে জীবনে সফল করতে অনেক অনেক সাহায্য করবে তাই কোন কাজ করার আগে সেই ইনটেনশন টা যেন না থাকে যে যা কিছু হোক না কেন আমি এই কাজটা আজকে কমপ্লিট করে রাখবো এর জন্য আপনি রিমাইন্ডার পর্যন্ত সেট করে রাখতে পারেন এবং রিমাইন্ডার অনুযায়ী আপনাকে মনে করিয়ে দিতে পারেন যে এখন এই কাজ করার সময়

দিনে অন্তত এক দুবার এলার্ম সেট করে রাখুন এবং এলাম বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বিনা কারণে হাস রিসার্চাররা বলছে আপনি যখন হাসেন তখন আপনার ব্রেনের ডোপামিন নামে একটা হরমোন নিঃসরণ হয় সেটা আপনার শরীরের পক্ষে খুবই ভালো একটা হরমোন এছাড়াও যারা বলছে জোর করে হাসলে অনেক স্ট্রেস মুক্ত হয় এবং আপনি হেলদি ফিল করেন তাই এই ছোট অভ্যাসটা অবশ্যই করবেন প্রতিদিন দিনে একবার দুবার এলার্ম সেট করুন এবং এলাম বাজার সঙ্গে সঙ্গে আপনি একটু মুচকি হাসো

Leave a Comment