ওয়ারেন বাফেটের দেওয়া ৫ টি মূল্যবান উপদেশ যা আপনাকে জীবনে সফল ও ধনী হতে সাহায্য করবে

আজকে এই ব্লগ পোস্টে জীবনে ধনী এবং সফল হওয়ার জন্য ওয়ারেন বাফেটের দশটি প্রধান উপদেশ আমরা আলোচনা করব ওয়ারেন বাফেট পৃথিবীর তৃতীয় ধনীতম ব্যক্তি এবং উনি একজন খুব ভালো বিখ্যাত ইনভেস্টর। আর তার কাছ থেকে উপদেশ নেয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য।

এবং মাঝখানের একটি উপদেশ সব থেকে মূল্যবান তাই ব্লগ টি সম্পূর্ণ পড়ুন এবং এর থেকে আপনি আশা করছি অনেক কিছু শিখতে পারবেন।

১.সব সময় চেষ্টা করুন আপনার থেকেও উন্নত মানসিকতার মানুষদের সঙ্গে মেলামেশা করা

যদি আপনি নিজে আপনার বন্ধু হিসাবে আপনার থেকে অনেক উন্নত মানের মানুষদের বেছে নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে আপনিও সে দিকে এগোতে শুরু করবেন। উপদেষ্টার একটা উদাহরন দিলে আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

টপ ক্লাস মানুষের সঙ্গে থাকার একটা ছোট গল্প :

Yahoo কোম্পানির সি ই ও মরিসা মায়ার একটা গল্প আপনাকে বলছি।
মরিসা যখন ছোট ছিল তখন তার লরা নামের এক বান্ধবী ছিল।যে খুব ভালো বাস্কেটবল খেলতো।

তাই তখন লরা কে একটা অপশন দেওয়া হয়েছিল যে সে চাইলে ভার্সিটি টিমে যুক্ত হতে পারে।অথবা সে চাইলে জুনিয়র ভার্সিটি টিম যুক্ত হতে পারে।

এখন সমস্যা হলো লরা যদি ভার্সিটি টিমে যুক্ত হয় তাহলে হয়তো তাকে সারাবছর ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেয়ে বেঞ্চে বসে কাটিয়ে দিতে হতে পারে।

অপরদিকে সে যদি জুনিয়র ভার্সিটি টিমে যুক্ত হয় তাহলে সে প্রতিটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।কারণ সে খুব ভালো বাস্কেট বল খেলতো। এখন সে চাইলেই জুনিয়ার ভার্সিটি টিমে যুক্ত হতে পারতো কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে লরা সিদ্ধান্ত নিল যে সে ভার্সিটি টিমে যুক্ত হবে এবং সে সেই বছর একটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পেল না।

কিন্তু তার পরের বছর সিনিয়র বছরে লরা একজন সিনিয়র প্লেয়ার হিসেবে ভার্সিটি টিমে প্রতিটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় প্রথম থেকে কিন্তু তার বান্ধবীরা জুনিয়র হওয়ার জন্য সারা ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়ে দেয়।

পরে যখন মরিসা তার বান্ধবীকে জিজ্ঞেস করে যে তুই কিভাবে জানলি ভার্সিটি টিমে যুক্ত হলে তোর ভাল হবে তখন তার বান্ধবী উত্তর দেয় আমি জানতাম যে ভার্সিটিতে যদি আমি চান্স নাও পাইতে হলে অনেক বড় বড় প্লেয়ারদের সঙ্গে প্রাকটিস করার সুযোগ পাব এবং তাদের কাছাকাছি থাকার সুযোগ পাব তাদের দেখে আমি অনেক কিছু শিখতে পারবো সেটাই আমি করেছি তার জন্যই আমি এই বছরে এত ভালো একটা প্লেয়ার হতে পেরেছি

সুতরাং এই উদাহরণটা থেকে স্পষ্ট যে আপনি যদি আপনার থেকে উচু লেভেলের মানুষের সঙ্গে সময় কাটান তাদের সঙ্গে কথা বলেন তাদের স্কিল দেখেন তাহলে আপনিও জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারবে তাই সব সময় চেষ্টা করুন আপনার থেকে উচু লোকেদের সঙ্গে মেলামেশা করা এবং তাদের কাছ থেকে শেখার।

২.আমাদের সবার উচিত আউটার স্কোর কার্ড এর উপর ভিত্তি করে জীবন যাপন না করে ইনার স্কোর কার্ড এর উপর ভিত্তি করে জীবন যাপন করা

আপনাকে বাইরে থেকে সবাই ভাবে যে আপনি জীবনে খুবই সফল একজন সত্যবান মানুষ কিন্তু আপনি মনে মনে জানেন যে আপনি সবসময় মিথ্যা কথা বলেন এবং আপনার চরিত্র ভাল না তাহলে কি লাভ হবে কিছু। তাই আমাদের সবসময় উচিত যে আমাদের আউটার ওয়াল্ডস স্কোর না বাড়িয়ে ইনার ওয়ার্ল্ড স্কোর বাড়ানো।

একটা আউটার স্কোরকার্ড যেটা অনেক মানুষের মধ্যে আছে সেটা হলো যে লোকে আমাকে কিভাবে আমাকে দেখতে কেমন আমি কি রকম পোশাক পরি আমি কত বড় গাড়ি চড়ি কেমন ব্রান্ডের ঘড়ি পরি.

এগুলো লোকে নিয়ে ভাবে কিন্তু এর বদলে আমাদের যেটা করা উচিত আমাদের ইনার স্কোরকার্ড কত ভালো সেটাই দেখা উচিত যেমন আমি যে যে কাজ করছি সেগুলো কি আদৌ ঠিক কিনা আমি সত্যিই কি আমার জীবনের গোল গুলোকে পূরণ করছে কিনা আমি সময় নষ্ট করছে কিনা এই সমস্ত ব্যাপার।

মিস্টার ওয়ারেন বাফেট এরকম পাত্তা দেয় না যে লোকে তাকে তার ব্যাপারে কি বলে বরং সে নিজের চোখে কতটা ভালো মানুষ কিনা এবং তার নিজের পলিসি গুলো সব সময় মেনটেন রাখার চেষ্টা করে

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়

যে তার কোম্পানি তিনি চাইলে Berkshire Tax domicile থেকে Bermunda ট্রানস্ফার করে কয়েক হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি তার কোম্পানি Omaha কে ওখানেই রেখে দেন। এমনকি তার ডায়েট খুব সাধারন ধনী হওয়া সত্বেও

.তখন ভয় পান যখন সবাই লোভি হয়ে উঠছে তার তখন লোভী হয়ে উঠুন যখন সবাই ভয় পাচ্ছে

কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এটা দেখুন যে আগে পাস এর লোকেরা কি করছে সবাই যেটা করছে সেটাই যে ঠিক হবে এমনটা নয়। আর আমাদের মানসিকতা হল যে সবাই করছে মানে এটা কোনদিন ভুল হতে পারে না এবং সবাই ভুল করলে সবার সাথে সাথে আমিও লস খাবো।

যদি আপনার জীবনের লক্ষ্য অন্যের সহানুভূতি এবং সংঘ বা হয় তাহলে সবাই যেটা করে সেটাই আপনি চোখ বুজে করতে পারেন

কিন্তু আপনি যদি লাইফে অনেক বড় কিছু করতে চান অনেক বড় সফল মানুষ হতে চান তাহলে আপনাকে আলাদা কিছু করতে হবে অর্থাৎ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবাই যেটা করছে তার বিপরীত তাই আপনাকে করতে হবে কারণ বেশিরভাগ মানুষই ধ্বনি নয় তার মানে তারা তাদের কাজের জন্য ধনী নয় এবং আপনিও যদি সেই একই কাজ করেন তাহলে আপনিও জীবনে কখনো বড়লোক হতে পারবেন না।

যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যায় মাত্র এক পারসেন্ট মানুষ প্রতিদিন এক্সারসাইজ ফর হেলদি ডায়েট মেনটেন করে তাই ওই এক পারসেন্ট মানুষই বেশি দিন সুস্থভাবে স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকে অপরদিকে 99 পার্সেন্ট মানুষ এটা করে না তাই তারা নানারকম অসুস্থ হয়ে পড়ে

ঠিক তেমনি ভাবে মাত্র 1% যুবক ছেলে মেয়েরা তাদের যুবক বয়সে সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা এবং অন্যান্য স্কিল শেখা প্রভৃতির কাজ করে আর বাকি নাইনটি নাইন পারসেন্ট মানুষ জন সময় নষ্ট করে গেম খেলে টিভি দেখে ভিডিও দেখে তাই পরবর্তীকালে সেই এক পারসেন্ট মানুষ জীবনে প্রচুর সফল এবং বাকি 99% মানুষ জীবনে কিছুই করতে পারেন এখান থেকে ওয়ারেন বাফেটের যে কথাটা ছিল যখন সবাই মজা নিচ্ছে তখন তুমি ভয় পাও যে সময় নষ্ট হচ্ছে আর যখন সবাই কষ্ট পাচ্ছে পরবর্তীকালে তখন তুমি মজা নাও।

.কিছু কিছু জিনিস করতে আপনাকে জীবনের সময় লাগবে আপনি যতই সেই কাজের এক্সপার্ট হোক না কেন বা যতই পরিশ্রম করুক না কেন কিছু জিনিস সময় নেবে

আপনার কি মনে হয় আমাদের পৃথিবীতে এত ব্যর্থ গরিব মানুষ থাকার কারণ কি তার কারণ হলো যে সফলতা পেতে সময় লাগে এবং তার জন্য অসীম ধৈর্য ও সাহস এবং পারসিসটেন্স দরকার হয় যেটা 99 শতাংশ মানুষের মধ্যে থাকে না

আপনি হয়তো কোনদিন কোন একটা জাদুকরকে ম্যাজিক দেখাতে দেখে ভাবলেন যে ইস আমিও যদি এরকম ম্যাজিক করতে পারতাম কিন্তু আপনি এটা ভাবলেন না সেই জাদুকরকে ওই ম্যাজিকটা শিখতে কত বছর কত প্রাক্টিস তাকে করতে হয়েছে আমরা সবাই জানি গোল্ড অলিম্পিকে চারবার গোল্ড মেডেল পেয়েছে কিন্তু অলিম্পিকে চারবার গোল্ড মেডেল পাওয়ার জন্য তাকে কত বছর ধরে পরিশ্রম করতে হয়েছে এটার খবর আমরা রাখি না।

৫.আপনার নিজের সময় নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিখতে হবে:

ওয়ারেন বাফেট সবসময় বলে যে নিজের সময় নিজের কন্ট্রোল রাখার চেষ্টা করুন এবং এটা ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ আপনি কাউকে না বলার শিখছেন অন্যের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের জীবন চালানো কখনই উচিত নয় যদি আপনার আশেপাশে একটুখানি লক্ষ্য করেন তাহলে আপনি দেখবেন যে আমরা এখন এমন পরিস্থিতিতে বসবাস করি যেখানে চারিদিকে শুধু বিনোদন আর বিনোদন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে টেলিফোনে নানা গেম অ্যাপ টেলিভিশন ওয়েব সিরিজ আরো কত কি

সমস্ত জিনিস গুলো আমাদের গোল থেকে আমাদের দূরে রেখে দিচ্ছে এবং এগুলো আমাদের জীবনের সত্যি কোন মূল্য নেই বা খুব কম মূল্য আছে তাই সমস্ত কিছুকে না বলতে না শিখলে আপনি আপনার সময় কে কখনো নিজে হাতে কন্ট্রোল করতে পারবেন না

এইজন্য আপনাকে প্রতিদিন হাজারটা জিনিসে না বলতে হবে না হলে অন্য লোকেরা তাদের সুবিধার জন্য আপনাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবে

প্রশ্নটা হল যে আমরা না বলতে গিয়ে এতো সংকোচ বোধ করি কেন বা আমরা না কেন বলতে পারি না কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা চাই আমাদের সম্পর্ক গুলো যেন ভেঙে না যায় কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় আমরা যাকে চিনিও না তাকেও না বলতে পারিনা আমার মনে হয় যে আমরা অন্যের চোখে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্যই আমরা না বলি না কিন্তু এটা একটা ফাঁদ

এক্সপেক্টেশন আকাশছোঁয়া হওয়ার আগেই আপনি সবাইকে না বলতে শিখুন।

Leave a Comment