৩ টি অভ্যাস জীবনের বদলে দেয়ার জন্য

একবার এক রাজা এক রাস্তার উপর একটা বিশাল বড় পাথর ফেলে রেখে পাশের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে দেখতে লাগল যে কারা কেমন ব্যবহার করে তিনি দেখলেন যে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে কেউ পাশ কাটিয়ে চলে গেল আমার কেউ রাজা নামে গালিগালাজ করল এত বড় একটা পাথর রাস্তায় পড়ে রয়েছে বলে।
কিন্তু কেউই পাথরটা সরানোর চেষ্টা করল না এইভাবে 99 জন লোক চলে যাওয়ার পর একবার এক দরিদ্র চাষী সে বাড়ি ফিরছিল সে দেখল পাথরটি রাস্তার উপর পড়ে আছে এবং রাস্তাটিকে ব্লক করে আছে তাই সে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে পাথর আস্তে আস্তে সরানোর চেষ্টা করল এবং সে তাতে সফল হল সে পাথরটি কে সরিয়ে ফেলতে পারল

পাথরটা সরানোর পর সেই দরিদ্র চাষী দেখল যেখানে পাথর টা পড়েছিল সেখানে একচুয়ালি স্বর্ণমুদ্রা রয়েছে।

এবং তাতে রাজার লেখা একটা চিঠি এবং সেই চিঠিতে বলা ছিল যে এই পাথর যে সারাবে রাজা তরফ থেকে তাঁকে একশত স্বর্ণমুদ্রা উপহার দেওয়া হবে ।
এবং সেই দরিদ্র চাষী একশত স্বর্ণ মুদ্রা পেয়ে সেই গ্রামের অন্যতম ধনী লোকের পরিণত হল।

এখানে এই গল্পটাকে শেখার বিষয় হলো যে এই দরিদ্র চারিটি এমনকি করেছিল যা বাকি দেড় থেকে আলাদা এবং তাকে ধনী মানুষ পরিণত করল এই দরিদ্র চাষ এটি এমন কিছু করেছিল যেটা 99% মানুষ করতে ইচ্ছুক নয় তারা পাশ কাটিয়ে কিংবা রাজাকে দোষ দিয়ে চলে গেছে কিন্তু এই দরিদ্র চাষী নিজের কাঁধে বোঝাটা নিয়ে পাথর সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছে

ঠিক এই গল্পটার মধ্য দিয়ে আপনি যেটা বুঝতে পারলেন যে আপনি যদি পৃথিবীর সফল লোকেদের মধ্যে আসতে চান তাহলে আপনাকে সেই সমস্ত কাজ করতে হবে যেগুলো পৃথিবী 99% মানুষ করে না

তো আজকে আমি এই ব্লগে সেই এক শতাংশ লোকেদের কাজগুলোকে কিছু আলোচনা করবো যেগুলো 99% মানুষ কোনদিন করে না।

এসেট তৈরি করুন লাইবিলটি কম করুন (Build asset not liability)

একটা উদাহরণ দিয়ে বলি তাকে কলেজ থেকে পাশ কলেজ থেকে পাশ করে রমেশ এবং সুরেশ দুই বন্ধু একই কোম্পানিতে 10000 টাকা চাকরি পেল।

রমেশ এবং সুরেশ দুজনেই জানত যে এসেট হল এমন কিছু যা পকেটের টাকা নিয়ে আসে এবং লাইবেলিটি হল এমন কিছু যেটা পকেট থেকে টাকা বের করে নিয়ে যায়।

তো বেতন পাওয়া প্রথম পরমেশ কে করল আগের জমানো 5000 টাকা এবং নতুন বেতনের 10000 টাকা টোটাল 15000 টাকা দিয়ে একটা নতুন স্মার্টফোন কিনলে যেটা কিনা দু’বছরের মধ্যেই খারাপ হতে চলেছে

তার মানে এই ফোনটা রমেশের পকেট থেকে 15 হাজার হাজার থেকে 15 হাজার হাজার পকেট থেকে 15 হাজার হাজার থেকে 15 হাজার এই ফোনটা রমেশের পকেট থেকে 15 হাজার হাজার থেকে 15 হাজার হাজার পকেট থেকে 15 হাজার হাজার থেকে 15 হাজার হাজার টাকা আগামী দুবছরে বার করে নিয়ে যাবে

আয় করার সাথে সাথেই রমেশ নিজের লাইবেলিটি বাড়াতে থাকলো এর ফলে রমেশ 99 শতাংশ মানুষের তালিকায় চলে এলো ।

অন্যদিকে সুরেশ ও প্রথম মাসে মাইনে পাওয়ার পর ফোন কিনলো। কিন্তু 15 হাজার টাকা দিয়ে নয় মাত্র 5000 টাকা দিয়ে যা যা দরকার সেই সমস্ত কিছু সুরেশের মিটে যাবে।

এবং বাকি পাঁচ হাজার টাকা সুরেশ একটা ব্যবসায় ইনভেস্ট করল যে টাকাটা হয়তো দু’বছর পরে গিয়ে 15000 টাকায় রূপান্তরিত হবে মানে টাকা তৈরি করার সাথে সাথে সুরেশ নিজের এসেট তৈরি করল।

ফলে সুরেশ টপ 1% লোক এর তালিকা দিকে যাত্রা শুরু করল

সময়কে ইনভেস্ট করো সময়কে নষ্ট করো না(Invest time do not waste it)

রমেশ এবং সুরেশ দুজনে ভালো করে জানত যে ইনভেস্ট করার অর্থ হলো একটা টাইমের পর আমি সেখান থেকে ভালো কিছু রিটার্ন পাবো আর ব্যয় করার অর্থ হলো একটা সময় এরপর সেখান সেখান থেকে আমি নেগেটিভ রিটার্ন পাব

কিন্তু তবুও রমেশ তার সেই নতুন ফোনের পিছনে প্রতিদিন 5 6 ঘন্টা অকারণে নষ্ট করত। রামেশ্বর স্মার্ট ফোন টাকে নিজের এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য ব্যবহার করত খুব ভালোভাবে জানত যে এর রিটার্ন ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে অলস ভাবে ব্রেন কর্ম ক্ষমতা কমে যাওয়া অকারণে রেগে যাওয়া।

এটা জানা সত্ত্বেও যে সময় নষ্ট করলে তার নেগেটিভ রিটার্ন আসবে তবুও সে সেটা করতে থাকলো যেটা 99 শতাংশ মানুষই করে

অন্যদিকে অন্যদিকে সুরেশ নিজের একটা ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য 5 6 ঘন্টা প্রতিদিন কাজে লাগাতে লাগল এবং মানুষজনদের সঙ্গে অফিসে ইংলিশে কথা বলা শুরু করল এবং এর ফলে নিজের মধ্যে ইংলিশ বলার ক্ষমতাটা তৈরি করতে শুরু করলো কারণ সব সময় ইনভেস্ট করলে ভবিষ্যতে তার পজেটিভ রিটার্ন পাবে
কাস্টমারের সঙ্গে কিভাবে ডিল করতে হবে সেটা সুরেশ খুব ভালোভাবে বুঝতে পারল । ফলে নিজের উন্নতির সাথে সাথে সে যেখানে কাজ করত সেখানে প্রমোশন পেতে লাগল

মানুষের সঙ্গে হ্যাপিনেস শেয়ার করুন তাদের থেকে হ্যাপিনেস ছিনিয়ে নেবেন না( Share happiness do not snatch it)

রমেশ এবং সুরেশ দুজনেই জানত যে একটা স্টাডি থেকে জানা গেছে যে খুশি থাকার জন্য তোমার পরিবার এবং পারিবারিক রিলেশন গুলো খুব ভালো রাখতে হবে।
অর্থাৎ আশেপাশের মানুষগুলো উপর আমাদের হ্যাপিনেস ডিরেক্টলি নির্ভর করে

কিন্তু সমস্যা হল রমেশ যখন কারো সঙ্গে ক্লোজ সম্পর্কে আজ তো তখনই তার সম্পর্ক ভেঙে যেত কারণ সে তার থেকে তার খুশি সে নিয়ে নিতো। রমেশের মাইন্ডসেট এটা ছিল যে সামনের জন তাকে সব সময় খুশি করবে

অন্যদিকে সুরেশের সবসময় মাইন্ড সেট ছিল যে সামনের জনকে খুশি করা। সুরেশ হ্যাপিনেস শেয়ার করায় বিশ্বাস করতেন যার ফলে সুরেশ যখনই কারো সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলত তখন তার সাথে শশুরের সম্পর্ক দিন দিন আরো ভালো হতে থাকত

এইভাবে 15 বছর পর দেখা গেল যে পনের বছর আগে রমেশের যে চাকরিতে যুক্ত হয়েছিল তার জামা এনেছিল আজও সেই রকম মাইনে আছে এছাড়া তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রতিদিন ওষুধ খেতে হয় এর ফলে তার খরচ বেড়ে গেছে

তারপর কারো সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকার কারণে তাকে পৃথিবীতে বড় একা মনে বলে মনে হয় এখন রমেশের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে গেছে

অন্যদিকে সুরেশের অবস্থা 15 বছর পর কি হলো 15 বছর ধরে প্রতিদিন 5 ঘন্টা নিজের ব্যবসার পেছনে ইনভেস্ট পাড়ায় সুরেশ এখন একজন সফল ব্যবসায়ী।

15 বছর আগে তার যা ফাইনান্সিয়াল কন্ডিশন ছিল তার থেকে হাজারগুন ভালো অবস্থানে সে আছে এবং তার পরিবারের সবাই এবং তার বন্ধু-বান্ধব তাকে খুব ভালোবাসে ।

যদি সুরেশ এর মত আপনিও পৃথিবীর একপাশে লোকেদের অংশে আসতে চান তাহলে আপনাকে এই তিনটে অভ্যাস মেনে চলতে হবে
নিজের এসেট তৈরি করুন লাইবেলিটি কমান
সময়কে ইনভেস্ট করুন সময় নষ্ট করবেন না
মানুষজনের সঙ্গে খুশি শেয়ার করুন তাদের থেকে খুশি ছিনিয়ে নেবেন না

Leave a Comment