হাসির গল্প -বর বদল

বন্ধুর জন্য মেয়ে দেখতে গেছি। আমি বন্ধু আর বন্ধুর জামাইবাবু । জামাইবাবু আর দিদি মিলে আগেই দেখে এসেছিলেন। উনাদের পছন্দ হওয়ার পরই, বন্ধু একদিন আমায় বলল__” তুই তো একটু জ্যোতিষ চর্চা করিস! চল আমার সঙ্গে, ফাইনাল দেখাটা তুই না দেখলে হবে না!”রাজি হয়ে গেলাম। কনে দেখতে কার না ভালো লাগে ! বিশেষ করে মন্ডা মিঠাই ভরপেট খাওয়ার একটা সুযোগ পাওয়া যায়!বললাম__” যেতে তো পারব! কিন্তু কনে দেখতে গিয়ে , কনেকে তো আর বলতে পারব না, তোমার হাত খানা আমায় দেখাও! আর হাত না দেখলে, কেমন করে বুঝব, মেয়ের ভাগ্য কেমন?”বন্ধু বললো__” তা ঠিক! তোকে হাত দেখতে হবে না! কপালের কিছু কিছু চিহ্ন দেখেও তো বুঝিস ভালো-মন্দ! তাই ই দেখবি।

তোর উপর আমার খুব ভরসা আছে! তুই চল ভাই।”নির্দিষ্ট দিনে বন্ধুর বুড়ো জামাইবাবু, আমি আর বন্ধু কনের বাড়িতে উপস্থিত হলাম। দুজনেই খুব ভালো ড্রেস পরে গেছি। গা দিয়ে ভুর ভুর করে সেন্টের গন্ধ ছড়াচ্ছে! আমি চুলের টেরিখানা ঠিক করার জন্য, পকেট থেকে চিরুনি বার করে একবার চুলে চালিয়ে নিলাম। বন্ধুর কিন্তু মাথায় টাক ! 25 / 26 এই মাথায় মনে হয় 25 জোড়া চুল ও নেই! কাজেই চিরুনির বদলে বন্ধু নিজের হাত খানা একবার নিজের টাকে বুলিয়ে নিল!কনের বাড়ি গিয়ে বসার পরে শরবত চলে এলো। সেটুকু শেষ করে বন্ধু কানে কানে ফিসফিস করে বলল__” যা জিজ্ঞেস করার তুইই করবি কিন্তু!”আমি সম্মতি সূচক মাথা নাড়লাম।একটু পরেই মন্ডা মিঠাই, ফল-ফলাদি সাজানো প্লেট এসে গেল!

সেগুলোর সব সদ্গতি করার পর, কনে কর্তা গদগদ হয়ে শুধালেন___” এবার মেয়েকে আনতে বলি?”__”হ্যাঁ , হ্যাঁ নিশ্চয়ই! দেরি করে লাভ নেই।” জামাই বাবু বললেন।কিছুক্ষণ পরেই প্লেট হাতে কনে ঘরে প্রবেশ করল।প্লেটের মধ্যে বানানো পান, পাশে জর্দার গুড়ো, সিগারেটের প্যাকেট ইত্যাদি সাজানো আছে। আমাদের সামনে বসিয়ে দিয়ে , মাটিতে মাথা ঠুকে ঠাকুর প্রণামের মত হাঁটু গেঁড়ে মেয়েটি প্রণাম করলো। কিন্তু মাথাটা নিচু, চোখ দেখাই যাচ্ছেনা। এক মাথা চুল, বিনুনীর শেষে অবশিষ্টাংশ টা চার পেয়ের লেজের মত, কাঁধের উপর দিয়ে পেঁচিয়ে, বুক হয়ে পেটের কাছে ঝুলছে! মেয়েটিকে জামাইবাবু বললেন__” বস মা, বস!”তারপর তিনি আমার দিকে ইশারা করে বললেন, প্রশ্ন করার জন্য।বন্ধুমহলে আমার জ্যোতিষীর সুনাম কিছুটা থাকার ফলে, এর আগেও আমি অনেকের জন্য কনে দেখতে গেছি । ফলে কি জিজ্ঞেস করতে হবে, তার অভিজ্ঞতা আমার আগেই ছিল । তাই শুরু করে দিলাম __”তোমার নাম কি?”__”মিনতি মন্ডল !”

মেয়েটি মাথা নিচু করেই বললো!__”বাবার নাম?”__”নারায়ণ মন্ডল!”__”নামের আগে শ্রী যুক্ত করে বলতে হয়! আমি ভুলটা ধরিয়ে দিলাম! তারপর একটু থেমে বললাম__” কত দূর পড়াশোনা করেছ?”__”উচ্চমাধ্যমিক পাস।”__”হাতের কাজ কিছু পারো?”__”পারি!”__”রান্না পারো!”__”পারি মোটামুটি!”__”শুধু আলু দিয়ে কত রকমের রান্না করবে?”__”আলু চোখা, আলু ভাজা, আলুর দম ,আলু চচ্চড়ি , আলু পোস্ত—–“__”ঠিক আছে, আর বলতে হবে না!” ‌আমি থামিয়ে দিলাম!এখনকার মতো সুগারের রমরমা তখন ছিল না ! না হলে কনেপক্ষ মনে মনে আমার প্রশ্নের মুন্ডুপাত করতো ! একটু চুপ থাকার পর, জামাইবাবু আর বন্ধুর দিকে তাকিয়ে কানে কানে বললাম__” আর কিছু জানার আছে?”__”না।” উভয়ে উত্তর দিল। তারপর জামাইবাবু পকেট থেকে 101 টাকা বার করে প্লেটে রেখে, প্লেটটা মেয়েটির হাতে ধরিয়ে দিলো। যাবার আগে মেয়েটিকে বললাম

__”মুখটা তোলো তো!”মেয়েটি মুখটা তুলে আমার দিকে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করল।ভালো করে কপাল, গলা, -মুখ পরিদর্শনের পর বললাম__” ঠিক আছে, যাও এবার!”জামাইবাবু আমার কানের কাছে মুখ এনে বললেন __”কি দেখলে, শুভ লক্ষণ?”__”লক্ষণ খুবই শুভ! চলতে পারে!” ফিসফিস করে বললাম।বন্ধুর মুখে হাসি ফুটে উঠল । জামাইবাবু কনের বাবার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন__” আমাদের মেয়ে পছন্দ! আপনারা একটা দিন দেখে , ছেলের বাড়িতে আসুন! ঘর দোর দেখে নেবেন! তখনই বিয়ের দিন ধার্য করা যাবে!”কনে পক্ষ এসে দেখে শুনে বিয়ের তারিখ পাকা করে গেলেন।

নির্দিষ্ট দিনে মহা ধুমধামে বিয়ে ও হয়ে গেল। বর কনে অষ্টমঙ্গলা, দীঘায় হানিমুন কাটিয়ে , ফেরার দিন কয়েক পর, হঠাৎ একদিন আমি বন্ধুর বাড়ি গিয়ে হাজির হলাম।বন্ধুপত্নী মিনতি এসে দরজা খুলে দিলো। ঘরে ঢুকে, বন্ধু কোথায় জানতে চাইলাম।মিনতি বললো __”ও বাজারে গেছে! এক্ষুণি এসে পড়বে । আপনি বসুন , আপনার সঙ্গে ঝগড়া আছে আমার!”__”ঝগড়া! আমার সঙ্গে? আমি আবার কি করলাম ?” আকাশ থেকে পড়লাম আমি।মিনতি বলল__” আপনি নিজেকে দেখিয়ে , বন্ধুকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে, পালিয়ে গেলেন!”__”মানে!” আমার গলায় একরাশ বিস্ময়।

__”মানেটা হচ্ছে__ আমি মশাই, আমার বর হিসেবে আপনাকে দেখেছিলাম ! একমাথা টেরি বাগানো চুল ! রাগ টাগ হলে খামচা মেরে, চুল ধরে টানার খুব শখ ছিল! বিয়ের পর আমার ভুলটা ভেঙেছে! বর যে ও , তা আমি আগে জানতাম না! এখন কি আর করি!—– মিনতি দুঃখু দুঃখু মুখে হেঁসে উঠলো।আমি তাড়াতাড়ি পকেট থেকে চিরুনি বার করে চুলের টেরিটা ঠিক করে নিয়ে বললাম__” সেই শিয়ালের গল্পের ” আঙ্গুর ফল টক!” ভাবুন এখন থেকে!!

Leave a Comment