অনুগল্প -জন্মদিন

মালবীর তিন মেয়ে। বছর দুয়েক আগে তার স্বামী তাদের ছেড়ে বস্তিরই এক মেয়েকে নিয়ে আবার ঘর বেঁধেছে। মালবী গিয়েছিলো স্বামীর সাথে দেখা করতে কোমর বেঁধে ঝগড়াও করেছিলো

বলি তোমার কি আক্কেল গো মেয়েগুলোর কথাও কি একবার মনে পড়ল না!
স্বামীর জবাব

না মনে পরে নি। তিনটে মেয়ে বিয়োতে তোকে কে বলেছিলো? বোঝো অবস্হা যেন তিন মেয়ে হয়েছে মালবীর একার কারনে। মালবীও শুনিয়ে দিয়েছিল

এ কি অর্ডারী মাল নাকি যে কারখানায় যা অর্ডার দেবো তাই পাওয়া যাবে?

সে তুই বুঝে নি গে যা, আমার কোন দায়িত্ব নেই ব্যাস। কি বলা যায় এরকম অবুঝ, নির্দয় মানুষ কে।মালবী তারপরই বেশ কয়েকটা বাড়িতে কাজ নিয়ে নেয়। মোটামুটি গতবছর পর্যন্ত কোন অসুবিধা হয় নি, কিন্তু এবছর কি যে কাল রোগে ধরল গোটা পৃথিবীকে মানুষকে যেন তিষ্ঠোতে দিচ্ছে না।মালবীর দুটো বাড়ি ছাড়া আর সব কাজগুলো চলে গেল।কেউ বলে এখন বাড়িতে তোকে ঢুকতে দিতে পারবো না তো কেউ বলে তোমার দাদার চাকরীটা আর নেই তাই তোমাকে রাখতে পারবো না। ফ্রি রেশনের কথা সে শুনেছে তবে তাতে তার বিশেষ কিছু সুবিধা হয় নি। দিন পনের হলো অনেক ঘুরে একটা কাজ জোগাড় হয়েছে।এ বাড়ির বৌদি খুব ভালো। মালবীর ছোটো মেয়েটা এবার সাতে পা দিলো, আজ তার জন্মদিন। অন্য দুটোর জন্য একটু পায়েস বানিয়ে দিলেও ছোট মেয়ে রুম্পির জন্য প্রতিবছর সে একটু আয়োজন করে।রুম্পির প্রিয় হলো মাছ বিশেষ করে চিংড়ি মাছ।গতবছর জন্মদিনে মালবী রুই, চিংড়ি আর বাটা মাছ করে দিয়েছিলো তা ঐটুকু মেয়ে ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে মাছের কাঁটা বেছে কি সুন্দর খেয়ে উঠল। একটা লাল টুকটুকে জামা কিনে দিয়েছিল তাতে মেয়ে কি খুশি বলেছিল “পরের বছর একটা পুতুল কিনে দিও কেমন! “ এবছর সে কি করে টাকার জোগাড় করবে তাই বুঝতে পারছে না। অনেক চিন্তা করে নতুন কাজের বাড়ির বৌদিকে গিয়ে ধরল

আমায় পাঁচশোটা টাকা দেবে বৌদি, মাসে মাসে আমার টাকা থেকে কেটে নিও। আসলে আজ আমার ছোট মেয়েটার জন্মদিন।
পাঁচশো টাকার নোটটা হাতে নিয়ে ধরে প্রান এলো মালবীর।
বেলা দুটোর সময় মালবী ঘরে ঢুকলো। তার হাতে ধরা থালা- বাটিতে পরিপাটি করে সাজানো ভাত,ডাল,আলুভাজা,চারাপোনা মাছের ঝোল,চিংড়ি মাছ।তার পেছনে বড় মেয়ে মামপি হাতে রজনীগন্ধার ছোট একটা মালা নিয়ে আর মেজ মেয়ে টিকলি হাতে একটা পুতুল নিয়ে।একটা ফটোর সামনে এসে দাঁড়াল তিনজনে। মালাটা ফটোতে পরিয়ে পুতুলটা পাশে রাখল টিকলি।মালবী থালাটা ফটোর সামনে রাখলো।

রুম্পি মা দেখ তোর জন্মদিনে চিংড়ি মাছ রান্না করেছি। ভালো করে চেটেপুটে খেতে হবে কিন্তু । তুই গতবছর পুতুল চেয়েছিলি দেখ সেটাও….
কান্নায় ভেঙে পড়ে মালবী ও তার দুই মেয়ে। মালবী কি বলতো তার নতুন কাজের বাড়ির বৌদিকে? গতবছর জন্মদিনের পরেই রুম্পির ডেঙ্গি হলো। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কিন্তু পারলো কই রুম্পিকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে।