১০ টি ভুল যা প্রায় প্রতিটা নতুন ব্লগার করে থাকে

ব্লগিং করার সময় যে ভুলগুলো নতুন ব্লগাররা করে আগের পোস্টে আমি বলেছি যে কিভাবে আপনি একটি ব্লগ সাইট পুরো step-by-step খুলতে পারবেন তাই এই পোস্টে আপনাকে পুরো ডিটেলস এ এটা বলব যে কি ভুল নতুন ব্লগাররা করে বসে যাতে আপনি সেই ভুলগুলো না করে করেন।

প্রতিটা ভুল যেগুলো কমন সেগুলো নিয়েই আমি আজকের পোস্টে আলোচনা করব এছাড়াও অনেক ভুল করে কিন্তু এই ভুলগুলো জেনারেল । তাই আর্টিকেলটা শেষ পর্যন্ত অবশ্যই পড়ুন তাহলে আপনি এই ভুলগুলো করা থেকে বেঁচে যাবেন

১. তারা ব্লগে ট্রাফিক আনার চেষ্টা করে না :

সবাই ভাবে আমি একটা নতুন ব্লগ পোস্ট করে দিলাম তার মানে অটোমেটিকালি ট্রাফিক চলে আসবে।

এটা হল নতুন ব্লগারদের করা সব থেকে কমন ভুল।  তারা সবাই ভাবে যে আমাকে শুধু ব্লগ পোস্ট করতে হবে আমার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আপনাআপনি চলে আসবে কিন্তু বাস্তবে তা হয়না।

ট্রাফিক আপনার ওয়েবসাইটে আসার জন্য আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে, তার জন্য সবার প্রথমে ইনিশিয়াল ট্রাফিক আনার জন্য আপনাকে আপনার ব্লগ পোষ্ট গুলোকে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ টেলিগ্রাম গ্রুপ প্রভৃতি শেয়ার করতে হবে।  তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে ইনিশিয়াল কিছু ট্রাফিক আসবে যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপনার নতুন ব্লগ সাইটের জন্য।

তাহলে আপনি ঠিক কি করবেন?

১.আপনি যখন একটি নতুন ব্লগ পোস্ট লিখলেন সবার প্রথমে সেটা আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে এবং কিছু কিছু ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করুন।
২.আপনি পিন্টারেস্টে একটা অ্যাকাউন্ট বানান সেখান থেকে আপনি আপনার সাইটে ট্রাফিক নিয়ে আসো
৩.Quora একটা প্রশ্ন উত্তর সাইট , সেখান থেকেও আপনি আপনার সাইটে ট্রাফিক আনতে পারেন সেখানকার বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আপনি আপনার ব্লগ লিঙ্ক করতে পারেন।

৪.এছাড়াও আপনি টুইটারে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপে এমনকি মিডিয়ামে আপনার আর্টিকেল শেয়ার করতে পারেন তাহলে আপনার সাইটে অনেক ট্রাফিক আসবে

২.কিওয়ার্ড রিসার্চ না করে অনেকে ব্লগ লিখতে শুরু করে

ব্লগিংয়ের বিশেষ করে আপনার সাইটের এস-ই-ও জন্য কিওয়ার্ড রিসার্চ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। কিন্তু নতুন ব্লগাররা এই ভুলটা প্রায় করে যে তারা কোন পার্টিকুলার কিওয়ার্ড রিসার্চ না করে নিজের মনগড়া ব্লগ লিখতে শুরু করে।  এর জন্য তাদের সাইটে গুগোল রাঙ্ক হয় না ফলে অর্গানিক ভিজিটর একদমই আসেন তাই এই মিসটেক কিভাবে অ্যাভয়েড করবেন।

তাহলে আপনি ঠিক কি করবেন?

১.সবার প্রথমে আপনি একটা কিওয়ার্ড রিসার্চ টুল ব্যবহার করুন যেমন ahrefs  বা semrush।

২.যে টপিক নিয়ে লিখতে যাচ্ছেন সেই টপিকের মেইন কি ওয়ার্ড, কিওয়ার্ড রিসার্চ টুলে ইনপুট করুন তাহলে আপনি অনেক রিলেটেড কিওয়ার্ড পেয়ে যাবেন। 

৩.তারপর দেখুন সেই কিওয়ার্ডের ডিফিকাল্টি কত এবং সেই কিওয়ার্ড এর উপর মান্থলি কত ভিজিটর আসছে এবং কতগুলো সাইট সেই কিওয়ার্ড এর উপর রাঙ্ক করে আছে।

৪.সব সময় চেষ্টা করুন কিওয়ার্ড ডিফিকাল্টি দশের নিচে আছে অথচ বেস্ট ট্রাফিক আসছে এমন কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করা তাহলে আপনার সাইট দ্রুত রাঙ্ক করবে এবং অর্গানিক ভিজিটর আসবে।

৩.ইমেইল লিস্ট তৈরি করা

নতুন ব্লগারদের করা এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা মিসটেক তারা যে ভিজিটর গুলো তাদের ওয়েবসাইটে আসছে তাদের ইমেইল লিস্ট কালেক্ট করে না. যখনই আপনি আপনার সাইটে আসা প্রতিটা ভিজিটরের ইমেইল লিস্ট কালেক্ট করবেন তখন আপনার যে সুবিধাগুলো হবে সেগুলো হলো:

১.আপনাকে গুগোল এর উপর ভরসা করে থাকতে হবে না বা সোশ্যাল মিডিয়ার উপরে ভরসা করে থাকতে হবে না। আপনার কাছে নিজস্ব ট্রাফিক আছে আপনি যখনই কোন নতুন ব্লগ লিখলেন তখন আপনি আপনার ইমেইল লিস্টে যারা আছে তাদের সবাইকে পাঠিয়ে দিলে তাহলে ব্লগ লেখার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি বেশ কিছু ভিজিটর পেয়ে গেলেন।

২.পোস্ট এর পাশাপাশি আপনি আপনার ইমেইল সাবস্ক্রাইবারদের যেকোনো প্রডাক্টের এফিলিয়েট লিংক বা আপনি নিজস্ব কোন কোর্স বা আপনার নিজস্ব কোন বুক সেল করতে পারবেন সেটা করা খুবই সহজ।

৩.এছাড়াও ইমেইল লিস্টের মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে রেগুলার ভিজিটর নিয়ে আসছেন। এবং তাদের সঙ্গে পার্মানেন্ট রিলেশনশিপ বিল্ড করছেন সেটা আপনার ব্লগের জন্য সুদুরপ্রসারি ভূমিকা তৈরি করবে। 

এই ভুল না করার জন্য কি করবে?

প্রথম দিন থেকেই ইমেইল লিস্ট তৈরি করা শুরু করো।  অনেক এইভাবে যে আমার কাছে মাত্র ৫০ একশোটা ইমেইল থাকলে কি হবে ?

কিন্তু সবাই একদিন শূন্য থেকে শুরু করে। তুমি প্রচেষ্টা করবে দিনদিন তোমার ইমেইল সাবস্ক্রাইবার বাড়তেই থাকবে এবং হতে পারে ওই পঞ্চাশ জনের মধ্যে একজন তোমার কোন প্রোডাক্ট কিনলে তার জন্য তোমাকে এক্সট্রা পরিশ্রম করতে হলো না।

কিভাবে ইমেইল কালেক্ট করবেন ?

যখনই কোন ইউজার তোমার ওয়েবসাইটে ভিজিট করবে তাদেরকে একটা ফ্রী পিডিএফ বুক অফার করো এবং তার বদলে তাদের ইমেইল লিস্ট কালেক্টর এটা বেস্ট লিড জেনারেশন অপশন তোমার ব্লগের জন্য।

৪.উল্টোপাল্টা ব্লগ ডিজাইন:

যারা নতুন ব্লগার হয় তারা সবাই ফ্রি থিম ইউজ করে কিন্তু যখন তুমি যখন ফ্রি থিম ব্যবহার করবে তখন তোমার ওয়েবসাইট বেশি লোড হয়ে যাবে এবং ভালোভাবে কাস্টমাইজ এর অপশন পাবেনা।

কারণ এই সমস্ত থিমগুলো কোডিং খুব খারাপ ভাবে হয় সেই জন্য এগুলো ফ্রিতে পাওয়া যায়।

কিন্তু যেগুলো পেইড থিম সেগুলো খুব দারুণ ভাবে শর্ট কোড ইন করা থাকে বলে সেগুলো খুবই হালকা হয় এর ফলে সাইটের স্পিড খুব ভালো হয় ,এবং তুমি প্রচুর কাস্টমাইজেশন অপশন পাবেন।

গুগোল সিম্পল ডিজাইন কিন্তু ভাল স্পীড এবং ফ্রেশ নেভিগেশন পছন্দ করে তাই অকারণে নিজের সাইট কে উল্টোপাল্টা ভাবে ডিজাইন না করে যেকোনো একটা পেইজ থিম নিয়ে কাজ করুন এবং নিজের সাইটকে খুব সিম্পল রাখুন।

৫.অন্যের ওয়েবসাইট থেকে কনটেন্ট কপি করা

প্রায় সমস্ত নতুন ব্লগাররা এই ভুলটা অবশ্যই করে।  থাকে তারা যখন নতুন ব্লগিং শুরু করে তাদের মাথায় কোন আইডিয়া থাকে না কি লিখবে তাই তারা অন্যের ব্লগপোস্ট হুবহু কপি করে নিজের সাইটে পাবলিশ করে। এটা চরমতম ভুল

১.অন্যের থেকে কপি করলে তোমার সাইট গুগোল এ  কখনোই রাঙ্ক করবেনা।

২.অন্যের সাইট থেকে কনটেন্ট কপি করে তুমি কখনোই আয় করতে পারবে না। ৩. তোমার সাইটে বেশি ট্রাফিক আসবে না।

তাই অন্যের সাইট থেকে কপি করা কনটেন্ট বন্ধ করো। নিজের ভাষায় লেখ এবং সেটা পাবলিশ করো গুগোল সেটাই পছন্দ করে এবং সেটা কদর করে তুমি যত নিজে আর্টিকেল লিখবে তো তোমার সাইটে অর্গানিক ভিজিটর আসবে কারণ তোমার সাইট যদি ভালোভাবে কর রিসার্চ এবং ব্যাকলিংক থাকে তাহলে রাঙ্ক করবে।

৬.নিজের সাইট স্পিড খুব খারাপ থাকে

নতুন ব্লগাররা নিজের সাইট স্পিড নিয়ে একদমই সচেতন নয়। তারা মনে করে কনটেন্ট  পাবলিশ করাটাই আসল কিন্তু নিজের ওয়েবসাইটে স্পিড যদি কম থাকে তাহলে সেটা কখনোই গুগলে সার্চ ইঞ্জিনে উপরের দিকে আসবে না কারণ গুগোল নিজেই যে সাইট বেশি তাড়াতাড়ি খুলছে সেটা প্রেফার করবে। তাই যখনই ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করার সময় আসবে তখনই নিজের ওয়েবসাইটে স্পিড মেন্টেন রাখতে হবে কিন্তু নতুন ব্লগাররা এটা একদমই করেনা।

স্পিড বাড়ানোর জন্য ইমেজ অপ্টিমাইজ করা দরকার , wp rocket প্রিমিয়াম প্লাগিন ব্যবহার করুন। 

৭.অনেকেই সস্তা লো কোয়ালিটি হোস্টিং ব্যবহার করে

টাকা বাঁচানোর জন্য অনেকে লো কোয়ালিটি সস্তা হোস্টিং ব্যবহার করে ,এর ফলে তাদের ওয়েবসাইটে স্পিড মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং যখনই তুমি কোন লো কোয়ালিটি হোস্টিং ব্যবহার করবে তখনই যখন ওয়েবসাইটে বেশকিছু ভিজিটর আসবে তোমার ওয়েবসাইট ক্রাশ করে যাবে। এবং খুব দেরিতে খুলবে , ফলে ইউজার অন্য সাইটে চলে যাবে ফলে তোমার ওয়েব সাইটের বাউন্স রেট খুব বেশি থাকবে তাই সবসময় ভালো হোস্টিং ব্যবহার করো। তাতে কাস্টমার সাপোর্ট খুব ভালো পাবে এবং নিজের ওয়েবসাইট খুব ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারবে।

৮.বেশিরভাগ ব্লগার ফ্রী প্ল্যাটফর্ম ইউজ করে

বেশিরভাগ ব্লগার যখন ব্লগিং শুরু করে তখন তারা ওয়ার্ডপ্রেসের বদলে ব্লগারে ব্লগিং শুরু করে।  ব্লগার একটি ফ্রি প্ল্যাটফর্ম এর প্রচুর লিমিটেশন আছে

১.এখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইট ভালোভাবে কাস্টমাইজ করতে পারবেন না ২.আপনার ওয়েবসাইটে স্পিড নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না

৩.আপনার সাইট যেকোনো মুহূর্তে হ্যাক হয়ে যেতে পারে

৪.আপনার সাইটে বেশি কনটেন্ট হলে লোড নিতে বেশি সময় লাগবে আরো অনেক অসুবিধা আছে

কিন্তু আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে আপনার ব্লগিং সাইট খোলেন তাহলে ওয়ার্ডপ্রেসে প্রচুর প্লাগিন এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে একটা প্রফেশনাল লুক দেওয়া থেকে শুরু করা এবং নিজের ওয়েবসাইটে স্পিড এসইও সবকিছু ভালোভাবে করতে পারবে কিন্তু বেশিরভাগ ব্লগাররাই ওয়ার্ডপ্রেসের বদলে ফ্রী প্লাটফর্মে ব্লগিং শুরু করে যেটা কখনোই করা উচিত না

৯.অল্প কনটেন্ট পাবলিশ করা:

নতুন ব্লগাররা মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ ওয়ার্ড এর কন্টেন্ট পাবলিশ করে তাতে কোনো লাভ হয়না গুগোল আর্টিকেল ভালোভাবে ডিসক্রাইব করা। ভালোভাবে শেখানো এমন ধাপে ধাপে বড়ো আর্টিকেল পছন্দ করে। সেখানে মাত্র ৩০০-৪০০ ওয়ার্ড এর মধ্যে কন্টেন লিখলে গুগল তা একদমই পছন্দ করেনা। কিন্তু নতুন ব্লগাররা তাড়াহুড়ো করে কোন রকম ভাবে এদিক ওদিক থেকে কপি করে 300 400 ওয়ার্ড এর ব্লগ পোস্ট লিখে দেয়। যেটা তাদের পক্ষে চরমতম ভুল।

১০.সবশেষে নতুন ব্লগাররা নিজেদের কমিউনিটি তৈরি করেন না

তারমানে ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টাগ্রাম পিন্টারেস্ট টুইটার সব জায়গায় নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

যেমন ধরুন আপনি যখন নতুন ব্লগিং শুরু করলেন তখন আপনি নিজের একটা হোয়াৎসঅ্যাপ গ্রুপ খুলতে পারেন যেখানে আপনি নতুন লোকেদের ব্লগিং শেখাবেন আপনি একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলতে পারেন যেখানে আপনি নতুন লোকেদের ব্লগিং শেখাবেন।

কিন্তু নতুন ব্লগাররা এটা কখনোই করেন যেটা একটা মারাত্মক ভুল একটা কমিউনিটি তৈরি করার সবথেকে সুবিধা হল যখনই আপনি কোন নতুন অফার প্রোডাক্ট বই বা নতুন কোনো ব্লগপোস্ট লিখবেন তখনই আপনি অনেকগুলো অর্গানিক ভিজিটর পেয়ে যাবেন।  সেই জন্য ব্লগিং শুরু করার প্রথম দিন থেকেই কমিউনিটি  তৈরি করা অবশ্যই প্রয়োজন।

Leave a Comment